যুদ্ধক্ষেত্র। চারদিকে আহত ও শহীদদের দৃশ্য। প্রচণ্ড গরম, রক্তক্ষরণ আর তীব্র তৃষ্ণায় অনেক সাহাবি মাটিতে লুটিয়ে আছেন। এমন কঠিন মুহূর্তেও তাদের হৃদয়ে ছিল ঈমান, ভ্রাতৃত্ব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষা।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর একজন সাহাবি পানিভর্তি একটি পাত্র নিয়ে তাঁর আহত আত্মীয়কে খুঁজতে বের হলেন। অনেক খোঁজার পর তিনি তাঁকে পেলেন। তিনি তখন তৃষ্ণায় কাতরাচ্ছিলেন এবং মৃত্যুর খুব কাছাকাছি অবস্থায় ছিলেন।
পানির পাত্রটি তাঁর সামনে ধরতেই দূর থেকে আরেকজন আহত মুসলিমের কষ্টভরা আওয়াজ শোনা গেল। তখন প্রথম সাহাবি নিজের তৃষ্ণার কথা ভুলে গিয়ে বললেন,
"আগে তাকে পানি দাও।"
পানির পাত্রটি নিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে যাওয়া হলো। কিন্তু তিনিও নিজের জন্য পানি গ্রহণ না করে আরও একজন আহত মুসলিমের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন,
"আগে তাকে দাও।"
এরপর পানির পাত্রটি তৃতীয় ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো হলো। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেল, তিনি ইতোমধ্যে শাহাদাত বরণ করেছেন।
তখন দ্রুত দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে ফিরে আসা হলো। কিন্তু তিনিও দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর প্রথম ব্যক্তির কাছে ফিরে এসে দেখা গেল, তিনিও শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, পানির পাত্রটি পূর্ণই রয়ে গিয়েছিল। তীব্র তৃষ্ণায় কাতর থাকা সত্ত্বেও কেউ নিজের জন্য এক ফোঁটা পানিও পান করেননি। প্রত্যেকেই ভেবেছিলেন, তাঁর মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন তাঁর নিজের চেয়ে বেশি।
আজকের পৃথিবীতে মানুষ সামান্য স্বার্থের জন্য সম্পর্ক নষ্ট করে, ঝগড়া করে, একে অপরকে কষ্ট দেয়। অথচ সেই সাহাবিগণ মৃত্যুর মুহূর্তেও নিজেদের কথা না ভেবে অন্য ভাইয়ের কষ্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এটাই ছিল তাদের ঈমানের শক্তি, এটাই ছিল তাদের চরিত্রের সৌন্দর্য।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত ঈমান শুধু নামাজ, রোজা বা কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত ঈমান মানুষের হৃদয়কে এমনভাবে পরিবর্তন করে যে সে নিজের চেয়েও অন্যের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দিতে শেখে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকেও সাহাবিদের মতো নিঃস্বার্থতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দৃঢ় ঈমান দান করুন। আমিন। 🤲
"তারা নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়।"
— সূরা আল-হাশর, আয়াত ৯।

Social Plugin