ব্যাংকের ইন্টারেস্ট (সুদ) খাওয়া হালাল নাকি হারাম? কোরআন ও হাদিসের আলোকে


 

ব্যাংকের ইন্টারেস্ট (সুদ) খাওয়া হালাল নাকি হারাম? কোরআন ও হাদিসের আলোকে

ব্যাংকের সুদ বা Interest নিয়ে অনেক মানুষের মনে প্রশ্ন থাকে—ব্যাংকে টাকা রেখে যে ইন্টারেস্ট পাওয়া যায়, তা কি ইসলামে হালাল, নাকি হারাম?

এই লেখায় কোরআন, হাদিস এবং মূলধারার ইসলামি ফিকহের আলোকে বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।


সুদ (রিবা) কী?

ইসলামী পরিভাষায় রিবা (সুদ) বলতে এমন অতিরিক্ত অর্থকে বোঝায়, যা ঋণ বা দেনা-পাওনার বিপরীতে পূর্বনির্ধারিতভাবে নেওয়া বা দেওয়া হয়।


কোরআনে কী বলা হয়েছে?

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।"

— সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৫

এছাড়া সূরা আল-বাকারার ২৭৮–২৭৯ নম্বর আয়াতে সুদ পরিত্যাগের নির্দেশ এবং সুদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।


হাদিসে কী বলা হয়েছে?

সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের হিসাব লেখক এবং সাক্ষী—সবার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন।

এ কারণে অধিকাংশ ইসলামি আলেম সুদের লেনদেন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।


ব্যাংকের ইন্টারেস্ট কি সুদের অন্তর্ভুক্ত?

মূলধারার ইসলামি আলেম ও ফিকহ একাডেমিগুলোর মতামত অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যাংকের নির্ধারিত Interest (সুদ) রিবার অন্তর্ভুক্ত। তাই তা গ্রহণ বা প্রদান করা শরিয়াহসম্মত নয়।


ইসলামিক ব্যাংকের মুনাফা কি একই বিষয়?

না।

ইসলামিক ব্যাংকগুলো সাধারণত মুনাফা ভাগাভাগি (Profit Sharing), ক্রয়-বিক্রয় বা শরিয়াহসম্মত অর্থায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার দাবি করে। তাই ইসলামিক ব্যাংকের মুনাফা ও প্রচলিত ব্যাংকের নির্ধারিত সুদ এক বিষয় নয়।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহসম্মত কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


যদি ভুলবশত সুদের টাকা পাওয়া যায়?

এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত বা আর্থিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন বিশ্বস্ত ইসলামি আলেম বা শরিয়াহ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উত্তম।


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের ইন্টারেস্ট কি হালাল?

মূলধারার ইসলামি মত অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত ইন্টারেস্ট রিবার অন্তর্ভুক্ত এবং তা হালাল নয়।

ইসলামিক ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে?

অনেক মুসলিম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বেছে নেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে নিজে জেনে নেওয়া ভালো।

সুদ ও ব্যবসার লাভ কি একই?

না। কোরআনে ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম বলা হয়েছে। তাই ইসলামি দৃষ্টিতে এ দুটি এক বিষয় নয়।


উপসংহার

কোরআন, হাদিস এবং মূলধারার ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী রিবা (সুদ) হারাম। প্রচলিত ব্যাংকের নির্ধারিত ইন্টারেস্টকে অধিকাংশ ইসলামি আলেম রিবার অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্বস্ত ইসলামি আলেম বা শরিয়াহ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সর্বশেষ আপডেট: জুলাই ২০২৬

Post a Comment

0 Comments